কবি: মুহাম্মাদ বায়েজিদ বোস্তামী
মৃত্যুর মিছিলে খাই গড়াগড়ি,
চিনি না তো তার কোনো অলিগলি।
দুচোখে আঁধার, দিশেহারা প্রাণ,
শূন্য বুকে শুধু দীর্ঘশ্বাসের বান।
পায়ের গিরায় পাই না শক্তি,
ভাঙা হৃদয়ে জমে অনুক্তি।
অপরাধ ভরে আছে অন্তর-মাঝে,
লুকোতে চাই না, তবু লুকিয়ে কাঁদে।
হে দয়াল, তুমি দয়ার সাগর,
ডুবে যাই কেন অতল গহ্বর?
চারদিকে অমানিশায় দেখি শুধু ঘোর,
ক্ষমার জলে ধুয়ে আসুক নতুন ভোর।
শেষ নিশ্বাসে তোমারই নাম,
হোক সে আমার মুক্তির ধাম।
তোমার চরণে রাখি এ প্রাণ,
তুমিই হও আমার শেষ অবলম্বন।
আমি বিদ্রোহী, আমি ক্ষিপ্ত,
অন্যায়ের সাথে হবে না সন্ধি।
তাই তো সবার চক্ষুশূলে,
হয়ে যাই আমি বন্দি।
থাকবে না ভবে কেউ সেয়ানা,
মৃত্যুর মিছিলেও দেখেছি বহু হায়েনা।
জীবনযুদ্ধে জড়াতে ভাবি না আপন-পর,
বেশিরভাগ দেখেছি, সবাই স্বার্থপর।
এ দুনিয়ায় রব ছাড়া সবই ছলনা,
বিপদে পাশে পাবে কাকে, বলো জানা?
ব্যস্ততা আর সঙ্গতা, সবই অজুহাত,
মুখে বলে ‘তুমি সেরা’, আড়ালে ব্যথার রাত।
ধরিত্রীর বুকে চাই জনমানুষের মন,
নির্ভীক মনে চলি আমি ক্ষণে ক্ষণ।
প্রাণসত্তার কল্যাণে নিবেদিত প্রাণ,
হৃদয় ভরা যায় আনন্দে, সুখে আমার জান।
আমি মানি না ব্যবধান, করি না কোনো বৈষম্য,
সব ভেদাভেদ ভুলে চাই আমি সাম্য।
সব সমালোচনার বুকে চাপা দিয়ে আমি শান্ত,
সকল মুখোশধারী হয়ে ওঠে ক্ষিপ্ত অশান্ত।
আমি কারো কথা শুনি না, কারো পথ ধরি না,
শুনি আপন মন-ধরি ন্যায়ের পথ।
ষড়যন্ত্রকে দুমড়ে-মুচড়ে করি আমি নিপাত,
সবার কাছে শত্রু হলেও নির্ভীক আমার শপথ।
মৃত্যুপুরী থেকে যেন ঘুরে এলাম,
বুকে বাজে নিঃশ্বাস, নতুন আশা পেলাম।
অচেনা আলোয় হেঁটে যাচ্ছি আমি,
স্বপ্ন আর স্মৃতির কাছে আর নেই ক্লান্তি।