কলমেঃ ইঞ্জিঃ মোঃ সিরাজুল ইসলাম
আমি এককালে ইতিহাসের চাঁদ সুলতানা
রাজ্য শাসনে ছিলাম সুলতানা রাজিয়া,
জ্ঞান তপস্যায় তাপসী রাবেয়া
আমি মাদাম কুরি, মাদার তেরেসা !
সমাজ সংস্কারে আমি শামসুন্নাহার
জোয়ান অফ আর্ক, সম্রাজী নূর জাহান,
নওয়াব ফয়েজুন্নেছা, বেগম রোকেয়া,
আমি ঝলসে উঠা ঝাঁসির রানী !
আমি কৃষ্ণের রাধা
আজ ও সবার প্রেম ডোরে বাঁধা,
আমি মজনুর লাইলী, ফরহাদের শিরি
আমার জন্য ঘুরে ছিল, কেউ বন কেটেছিল গিরি!
আমি রামের সীতা দিয়েছি অগ্নিপরীক্ষা
দেব দাসের পার্বতী, ইউসুফের জুলেখা,
আমাদের প্রেম গাঁথা যুগ যুগ আছে লেখা
আমি রাণী ভবানী, রাণী রাশ মণি —
ইংরেজ কাপতো আমাদের নাম শুনি !
আমি মধু বালা, মারলিন মনোরা
আমাদের রূপের ছটায় পুরুষ হতো ঘর ছাড়া,
আমি গোল্ডামেয়ার, ইসাবেলা, শ্রীলঙ্কার ‘বন্দর নায়েক’
আমি ভারতের ‘ইন্দিরা গান্ধী’, বাংলার ‘হাসিনা’ !
আজ ‘অশ্ব বর্ষে’ এসে হয়েছি অসহায়
ছ’বছর বয়সে, মসজিদে মন্দিরে ধর্ষণ করে পুরোহিত মোল্লায়!
আমি স্কুল কলেজ কিম্বা পড়ি বিশ্ববিদ্যালয়
আমার পিতৃতুল্য শিক্ষক জ্বলে কামনার লালসায়,
যার পায়ে হাত দিয়ে করি ছালাম, পিতা বলে
সেই শিক্ষক করে যৌন হয়রানি ছলে বা কলে !
আমি নারী বড় অসহায় , কেউ নাই আমার দলে
থানা পুলিশ প্রশাসন সবাই যৌন জ্বালায় জ্বলে,
ইচ্ছে হয় হয়ে যাই “ফুলন দেবী”, নেই প্রতিশোধ
প্রস্তাবে রাজী না হলে হতে হয় ‘নুসরাত, শব মেহের, নারী অবোধ!
আমি মেয়েমানুষ, অক্ষম, দুর্বল, অসহায়
মসজিদ মাদ্রাসা কলেজ, নিরাপদ নই কোনজায়গা,
প্রশাসনের যেখানে যাই করতে অভিযোগ
সবাই আমার দিকে তাকায় ক্ষুধার্ত লালসার চোখ !
বিচারকের এজলাসে উকিল সাব জিগায়,
হাত অধঃস্হনে ছিলো, নাকি উদাম ছিনায়,
ছিলো শুধু কামিজ নাকি অন্ত বাস
পরিধেয় কিছু ছিলো নাকি সব ছিন্নভিন্ন শেষ ?
এমনি যেখানে যাই, হই বলাৎকার, বার বার
সমাজ, প্রশাসন, আদালত, চাইতে গেলে বিচার,
নিরাপদ নয় কোথাও একজন নারী যেথা আছে নর
নিজ ঘর, স্বামীর সংসার, অসহিষ্ণু পুরুষের বিকার !!