মিজানুর রহমান মিজান
নির্মল স্মৃতির
অনুতাপের মালা কণ্ঠে পরে
কত নিশি ভিজে শিশিরে
ভাঙ্গিলাম অনুরাগের প্রাচীর।।
দু’হাতে মুছিলাম আখিঁ জল
অষ্ট প্রহর ভাবনার ফল
হিসাব মিলাতে গন্ডগোল সুগভীর।।
অবিশ্রান্ত কত না কেঁদেছি
আপন করার শত চেষ্টা করেছি
চেষ্টা বিফল প্রতিফল পাতায় স্মৃতির।।
স্বপ্নের জাল বুনি অবিরত
বাস্তবে রুপ দানে মগ্ন সতত
ব্যথার কাটা উপড়ে ফেলে নিষ্পলা আবির।।
জয়ের মালা হল না পরা
শুন্যতার বইছে শ্রান্ত খরা
ভাবান্তর উদাসী মন স্তুপীকৃত নির্মল স্মৃতির।।
প্রমাণ
ভাল কাজ দেখতে পারে না
মন্দ তো করতে পারি না
গা জ্বলে তার সহ্য হয় না
তাই-তো শুধু দেয় কষ্ট যন্ত্রণা।।
বিড়ালের ভাগ্যে ছিড়ে শিকা
সদা মত্ত দিতে ধোঁকা
শিয়ালে পায় মোরগের ভান্ডার একা
খেতেই চায় বিলাতে রাজি না।।
হায়রে সাধের ক্ষমতা প্রভাব,প্রতিপত্তি কৌশলের ভিন্নতা
অহর্নিশি মুখের বুলি বড় বড় কথা
যে কথায় মানব মনে লাগে ব্যথা।।
অহংকার পতনের মুল আছে বিদ্যমান
ক’দিন পর হয় তার সকল অবসান
তা দেখে ও নেয় না দীক্ষা অন্যের প্রাণ
এ দৃষ্টান্তের রয়েছে ভুরি ভুরি প্রমাণ।।
দেখার প্রত্যাশা
দেখার প্রত্যাশায় কাটে সারাবেলা
দিনমান কাটাই থেকে একেলা,নিরালা।।
মনের যত দু:খ ব্যথা বলব একান্তে
হতাশ হয়ে ফিরি নীড়ে দিনান্তে
লাজ লজ্জা বিসর্জি আছি ধরে পালা
আজ নয় কাল,কাল নয় পরশু
যাক জীবন যদিও হই বলির পশু
আশার আশে অবশেষে,পরতে যদি পারি মালা।।
বন্ধু বিনে কেবা আছে,সদা রহমত যেজন যাচে
তারে ভুলে অন্যের কাছে,দিন কাটাই অবেলা,অবহেলায়।।
হয় যতই
চলছি সদায়, বন্ধের দয়ায়
আমার আমি কই।।
আমিতো আমি নয়,অন্যের উপর নির্ভয়
বাহাদুরি কোথা রয়,অযথা শুধু হৈচৈ।।
একদিনের রোগে পড়িলে,সর্বাঙ্গ অবশ হলে
পাই না মুক্তি কোন কলে,দয়ার দয়ায় শুধু রই।।
এ ভব সংসারে,অকুলে পড়ে কাতরে
আছি সমুদ্রের গভীরে,পথহারার ভিন্ন উপায় কই।।
হোক জয় বা পরাজয়,ভাবি না এ বিষয়
রাখ যেথায় ইচ্ছা হয়,ভুলব তোমায় কষ্ট হয় যতই।।