সুজন কুমার রায় (নিভৃতচারী)
উদ্ভিদবিজ্ঞানের সেই স্নিগ্ধ সবুজের ছায়ায় আমরা আঠারোটি প্রাণ গড়ে তুলেছিলাম একটি পরিবার। আজ আমাদের সোনালী অধ্যায়ের সমাপনী ক্ষণ। চারদিকে বিদায়ের করুণ সুর,আর বুকের ভিতর টা আজ বড্ড বেশি ভারী।
আজকে যখন বিদায়ের সুর বাজছে, তখন স্মৃতির ধুলো ঝেড়ে একে একে ভেসে উঠছে প্রিয় মুখগুলো।
শুরুতেই মনে পড়ে সাজিদের কথা; বলিষ্ঠ স্বাস্থ্যের চেয়েও বড় ছিল তার দায়িত্ববোধ, সব প্রতিকূলতায় সে থাকতো সবার আগে। আর আমাদের নাজমুল— তীক্ষ্ণ মেধার এক প্রখর ব্যক্তিত্ব, যার অভিমানী রাগগুলো ছিল বড্ড আদুরে।
ল্যাবের সেই করিডোরে তিথীর প্রাণখোলা হাসি এখন আর আগের মত প্রতিধ্বনিত হবে না, যে হাসি এক নিমেষে আমাদের সব ক্লান্তি মুছে দিত; ওদিকে- সজলের সুঠাম রূপের জৌলুসে আমরা কতজন যে মুগ্ধতার প্রহর গুনেছি, তার হিসেব মেলা ভার!
অনামিকাকে মনে পড়ে— ক্লাসের পড়া নিয়ে মহাব্যস্ত সেই মুখ, আর ক্ষুধার্ত পেটে তার সেই ছেলেমানুষি ছটফটানি। এদিকে- ল্যাবের গম্ভীর নিস্তব্ধতা ভেঙে যেত যখন আওলাদ তার সেই চেনা মুচকি হাসি দিত, মুহূর্তেই শুরু হতো এক প্রাণবন্ত হৈ-হুল্লোড়।
হজরত আলী, যাকে আমরা রিঙ্কু বলে চিনি— ঝড়ের মতো হঠাৎ করে যার দেখা মিলত ক্যাম্পাসে। আর মাহমুদ হাসান; তার মতো এমন সহজ-সরল ও নিভৃতচারী মানুষ আজ সত্যিই বিরল।
আমাদের পলাশ দাদা— দীর্ঘদেহী আর প্রাণবন্ত এক মানুষ, অটোর ভেতরের সেই খুনসুটি আর জ্বালাতন আজও কানে বাজে। পাশে সাগর— যার স্নিগ্ধ হাসিটি ছিল আনন্দের এক অফুরন্ত উৎস।
লিমার মুখের অকৃত্রিম সরলতা মায়া ছড়াতো সবার চোখে। আর শাপলা— একটু আলসেমি, একটু মৌনতা, যার শান্ত স্বভাব আমাদের ক্লাসের চিরচেনা দৃশ্য।
স্বপন আহমেদকে কলেজ আঙিনায় কম দেখা গেলেও হোস্টেলের আড্ডায় সে ছিল অপরিহার্য। মিশা তার নামের মতোই মিশুক— সবার সাথে একাত্ম হয়ে যাওয়ার এক অদ্ভুত জাদুকরী ক্ষমতা ছিল তার।
রাকিবুল ইসলাম সজীবের কথা না বললেই নয়; তার হাতের নিপুণ তুলিতে প্রাণ পেত একের পর এক অনন্য শিল্পকর্ম। আর পূরবী যখন প্রাণ খুলে হাসত, তখন মনে হতো যেন বাতাসের দম ফুরিয়ে এসেছে।
মোনজাব তার মিষ্টি হাসির আড়ালে গভীর কোনো কষ্ট লুকিয়ে রাখে কি না, তা আজও অজানা। আর আমি সুজন কুমার— কেবল ভালোলাগা আর মন্দলাগার কাব্য লিখে গেছি এই দীর্ঘ পথচলায়।
আজ আমাদের যাওয়ার বেলা। যে যার পথে ছড়িয়ে পড়ব জীবনের টানে। তবুও হৃদয়ের মণিকোঠায় আমরা চিরকাল থেকে যাব সেই আঠারোজন— যারা জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়টা কাটিয়েছি উদ্ভিদের ঐ মায়াবী ছায়াতলে।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: আহমেদ হোসাইন ছানু। সাহিত্য সম্পাদক: মোঃ রহমত আলী। সম্পাদকীয় কার্যালয়: বিপিএল ভবন মতিঝিল ঢাকা- ১০০০। মোবাইল: 01715-90722
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫