শেখ সাইফুল ইসলাম কবির
আজ ১৮ সেপ্টেম্বর, বিশ্ব বাঁশ দিবস। প্রতি বছর এই দিনে বিশ্বজুড়ে পালিত হয় 'বিশ্ব বাঁশ দিবস'—একটি দিন যেটি শুধু গাছ হিসেবে বাঁশকে নয়, আমাদের সমাজ, সংস্কৃতি এবং অর্থনীতিতে বাঁশের অবদানকে তুলে ধরার জন্য নির্ধারিত। যদিও বাংলা সংস্কৃতিতে "বাঁশ" শব্দটি এক ধরনের রসাত্মক, কখনো-কখনো তীব্র ব্যঙ্গের রূপও ধারণ করেছে, তবুও বাস্তবিক অর্থে বাঁশ একটি অমূল্য প্রাকৃতিক সম্পদ।
বাঁশ: প্রকৃতির বিস্ময়
বাঁশ পৃথিবীর দ্রুতবর্ধনশীল গাছগুলোর একটি। এটি ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৯১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বাড়তে পারে। বাঁশের গঠন মজবুত, কিন্তু ওজন হালকা। তাই এটি ঘর নির্মাণ, আসবাবপত্র, খেলার সামগ্রী, বাদ্যযন্ত্র, এমনকি টেক্সটাইল শিল্পেও ব্যবহৃত হচ্ছে।
বাংলাদেশে বাঁশের ব্যবহার বহুমুখী: ঘরবাড়ি তৈরিতে, ঝুড়ি বানাতে, মাচাং বানাতে, খাবারের স্ট্যান্ড বানাতে, এমনকি চালন, কুলো, ডালি ইত্যাদি গ্রামীণ জীবনের অপরিহার্য সামগ্রী হিসেবেও বাঁশের ব্যবহার অপরিসীম।
বাঁশ চাষে স্বাবলম্বিতা
বর্তমানে দেশে অনেক উদ্যোক্তা বাঁশ চাষ ও বাঁশজাত পণ্য তৈরি করে সফলতা পাচ্ছেন। বাঁশ চাষে পানির চাহিদা কম, জমির সার ফসলে লাগেনা এবং একবার রোপণ করলেই বছরের পর বছর বাঁশ পাওয়া যায়। অনেক এনজিও এবং কৃষি প্রতিষ্ঠান এ নিয়ে কাজ করছে, যাতে গ্রামের বেকার যুবক ও নারী উদ্যোক্তা তৈরি হয়।
বাঁশ দিয়ে তৈরি করা যায় নানা ধরণের হস্তশিল্প, যেমন—ঝাড়ু, ঝুড়ি, মাদুর, ল্যাম্পশেড, ওয়াল শো-পিস, কলমদানি ইত্যাদি। আন্তর্জাতিক বাজারেও এইসব পরিবেশবান্ধব পণ্যের চাহিদা রয়েছে।
‘বাঁশ’ শব্দের সাংস্কৃতিক রূপ
বাংলা ভাষায় “বাঁশ” শব্দটি শুধুমাত্র গাছের নাম নয়, এটি এক ধরনের অভিব্যক্তির মাধ্যমেও ব্যবহৃত হয়। "বাঁশ দেওয়া" কথাটি দিয়ে বোঝানো হয় কাউকে ফাঁকি দেওয়া, ঠকানো বা হঠাৎ কোনো বিপদে ফেলে দেওয়া। এই প্রবাদটি হাস্যরসের খোরাক হলেও এর সামাজিক তাৎপর্য রয়েছে।
আজকের দিনে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই মজা করে বলবেন: “আজকের দিনটা শুধু বাঁশ দেওয়ার জন্য!” তবে শুধু ঠাট্টায় নয়, যদি আমরা সত্যিকারের বাঁশ চাষ করে এবং বাঁশজাত শিল্পের মাধ্যমে কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারি, তাহলে এ দিবসের প্রকৃত মানে বাস্তবায়িত হবে।
বাঁশ দিবসের তাৎপর্য
বিশ্ব বাঁশ সংস্থা (World Bamboo Organization) ২০০৯ সালে বিশ্ব বাঁশ দিবসের সূচনা করে। উদ্দেশ্য ছিল—বিশ্বব্যাপী বাঁশের ব্যবহার প্রসারিত করা, টেকসই উন্নয়নে বাঁশের ভূমিকা তুলে ধরা এবং বাঁশ চাষে মানুষকে উৎসাহিত করা।
বাংলাদেশে প্রতিবছর এ দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মশালা, সেমিনার ও প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পরিবেশ ও বন বিভাগ বাঁশ নিয়ে গবেষণা করছে। এছাড়া, বাঁশকে ঘিরে একটি নতুন 'গ্রিন ইকোনমি' গড়ে তোলার স্বপ্নও দেখা হচ্ছে।
---
শেষ কথা
আজকের দিনে কেউ যদি শুধু ঠাট্টার ছলে “বাঁশ” নিয়ে মশকরা করে, তাহলে সেটা হবে অর্ধসত্য চর্চা। কারণ, বাঁশ শুধু কাউকে “দেওয়ার” বস্তু নয়, এটি চাষ, ব্যবহার ও শিল্পের মাধ্যমে আমাদের জীবনমান উন্নয়নের এক চাবিকাঠি হতে পারে। তাই আসুন, বাঁশকে নিয়ে শুধু মজা না করে, এর সম্ভাবনা নিয়ে ভাবি। বাঁশ চাষ করি, বাঁশজাত শিল্প গড়ে তুলি, আর সত্যিকারের স্বার্থক করে তুলি—বিশ্ব বাঁশ দিবস।
-শেখ সাইফুল ইসলাম কবির চেয়ারম্যান জাতীয় মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম কেন্দ্রিয় কমিটি ঢাকা।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: আহমেদ হোসাইন ছানু। সাহিত্য সম্পাদক: মোঃ রহমত আলী। সম্পাদকীয় কার্যালয়: বিপিএল ভবন মতিঝিল ঢাকা- ১০০০। মোবাইল: 01715-90722
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫