সৈয়দা তৈফুন নাহার, বাগেরহাট:
২০২৬ ইং সালের বাংদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বাগেরহাট সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পুরো উপজেলায় নির্বাচন আনন্দ মুখর পরিবেশে নির্বাচন সংগঠিত হতে দেখা যায়। প্রার্থীদের প্রচারণা জোরদার হওয়ায় গ্রাম থেকে শহর সব জায়গায় ভোট নিয়ে আলোচনা সমালোচনা ছিলো তুঙ্গে। ভোটাররা এবারের নির্বাচনে উন্নয়ন মূলক স্বচ্ছতা, স্থানীয় সমস্যা সমাধান এবং সেবা প্রাপ্তিকে গুরুত্ব দিয়ে তাদের মূল্যবান ভোট প্রদান করেন। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে ভোট গ্রহন শেষ করেন।
বাগেরহাট সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান—এই তিনটি পদে মোট ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।চেয়ারম্যান: ৩ জন, ভাইস চেয়ারম্যান: ৪ জন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান: ২ জন।
সম্প্রতি ফেইসবুকে প্রচারিত একটি ভিডিওতে দাবি করা হয়—“ বাগেরহাট সদর উপজেলার একটি ভোটকেন্দ্রে ব্যালট আগেই ভরে রাখা হয়েছিলো। যার ফলে ঐ কেন্দ্রে যিনি বিজয়ী হয়েছেন তার জয়ী হওয়ার কথা ছিলোনা। বিষয়টি জানাজানি হলে ঐ নির্বাচনী এলাকায় প্রচন্ড রকম ঝামেলা হয়েছে এবং অনেক লোক আহত হয়েছে। খবরটি ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের ভেতর ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
খবরটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে , ফ্যাক্ট-চেকিংয়ের মাধ্যমে দেখা যায় ভিডিওটি পুরোনো এবং অন্য একটি জেলার ফুটেজ সংগ্রহের পর সম্পাদনা যোগ করে নতুন দাবি করা হয়েছে। ব্যাকগ্রাউন্ড, সাইনবোর্ড এবং তারিখ মিলিয়ে দেখলে স্পষ্ট হয় এটি সদ্য নির্বাচনের নয় এবং বাগেরহাট জেলারও নয়। উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করেও সত্যতার প্রমাণ মিলে যে ছড়িয়ে পড়া খবরটি সম্পূর্ণ বানোয়াট ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত। সম্প্রতী A I দিয়ে তৈরী করা ভিডিও এবং এটা ও নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, “ভিডিওটি সম্পূর্ণ ভুয়া, নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এটি ছড়ানো হয়েছে।”
এই প্রতিবেদনের তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ, যাচাই, সাক্ষাৎকার ও ফ্যাক্ট-চেকিং প্রক্রিয়ায় ১৯–২১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে South Asia Centre for Media in Development (SACMID) ও UNESCO আয়োজিত “নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রতিবেদন”, “তথ্যের অখণ্ডতা” এবং “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক ফ্যাক্ট-চেকিং” প্রশিক্ষণে অর্জিত দক্ষতা ও জ্ঞান প্রয়োগ করা হয়েছে।